1. admin@gaibandhapratidin.com : Milon Sarkar : Milon Sarkar
গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। » গাইবান্ধা প্রতিদিন
শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:১৪ পূর্বাহ্ন

গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২১
  • ১১ বার পঠিত

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহন বন্ধ রেখেছেন খাতটির মালিক-শ্রমিকেরা।
আজ শুক্রবার সকাল থেকে রাজধানীতে কোনো বাস চলতে দেখা যায়নি। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাচ্ছে না দূরপাল্লার কোনো পরিবহন।
গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। এ অবস্থায় তাঁরা বিকল্প ব্যবস্থায় গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সে জন্য যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া।

রাজধানীর গাবতলী এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, গাবতলী বাস টার্মিনালে থাকা অধিকাংশ বাস কোম্পানির কাউন্টার বন্ধ রয়েছে। কয়েকটি কাউন্টার আংশিক খোলা থাকলেও ভেতরে কাউকে দেখা যায়নি। বাস না চলায় অনেক যাত্রীকে টার্মিনালে এসে ফিরে যেতে দেখা গেছে। অনেককে আবার বিকল্প পরিবহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
গাবতলী থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে করে অনেক যাত্রীকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশে রওনা দিতে দেখা যায়। ব্যক্তিগত গাড়িতে গাবতলী থেকে পাটুরিয়া পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। মোটরসাইকেলেও প্রায় একই ভাড়া হাঁকা হচ্ছে।

গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনের মালিক-শ্রমিকদের এই কর্মসূচি চলার মধ্যে সকালে গাবতলী থেকে লোক তুলছিল সাভার-যাত্রাবাড়ী রুটে চলাচলকারী মৌমিতা পরিবহনের একটি বাস। বাসটিতে পাটুরিয়া পর্যন্ত জনপ্রতি ৩০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছিল। সাধারণত এই পথে যাত্রীদের ১০০ থেকে ১২০ টাকা ভাড়া গুনতে হয়। বাসটির চালক মামুন মিয়া বলেন, মালিক সমিতির বাস চালানোয় নিষেধ আছে। তাই তাঁরা সরাসরি পাটুরিয়া যাবেন না। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার ভেতর দিয়ে ঘাটে যাবেন।
ঢাকা থেকে ফরিদপুর যাবেন আবদুল মান্নান। গাবতলীতে পরিবহনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। আবদুল মান্নান বলেন, ফরিদপুরে চাকরি হয়েছে তাঁর। চাকরিতে যোগ দিতে আজই সেখানে যেতে হবে। কিন্তু বাস বন্ধ। বিকল্প উপায়ে যেতে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া লাগবে। তবে এই পরিমাণ টাকা তাঁর হাতে নেই।

গাবতলী বাস টার্মিনালে কথা হয় দূরপাল্লার পরিবহন গোল্ডেন লাইনের কাউন্টার ম্যানেজার হাসান মোহাম্মদের সঙ্গে। তিনি বলেন, মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাস বন্ধ আছে। তাই কাউন্টার বন্ধ রেখেছেন তাঁরা।

আজ রাতের মধ্যে বাস চালু হওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন অন্য কাউন্টারগুলোর দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা।
আজ রাজধানীর ভেতরে কোনো বাস চলতে দেখা যায়নি। ঢাকার রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, বাস বন্ধ থাকায় অন্য বাহনে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে রাজধানীর ভেতরে চলাচল করা যাত্রীদের।গত বুধবার মধ্যরাত থেকে ডিজেলের মূল্য লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি করেছে সরকার। পরিবহন সূত্রগুলো বলছে, জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যহার কার্যকর হওয়ার পর পরিবহন খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন। এসব বৈঠক থেকে সরকারিভাবে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার আগপর্যন্ত পরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। তবে অধিকাংশ সংগঠনের নেতারা সরকারপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাই তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মঘট ঘোষণা করতে চান না। অনানুষ্ঠানিকভাবে বাস, ট্রাকসহ বাণিজ্যিক যানবাহন না চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। সরকারিভাবে ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে আজ সকাল ছয়টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহন বন্ধ থাকবে বলে এ খাতের মালিক-শ্রমিকেরা জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর...

© ২০২০-২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | গাইবান্ধা প্রতিদিন

Theme Customized By Sky Host BD