1. shahriarltd@gmail.com : GaibandhaPratidin :
  2. maydul@gaibandhapratidin.com : Maydul :
  3. info@gaibandhapratidin.com : Milon Sarkar : Milon Sarkar
  4. raju@gaibandhapratidin.com : Raju Sarker : Raju Sarker
  5. srridoy121@gmail.com : Samsur Rahman Ridoy : Samsur Rahman Ridoy
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গাইবান্ধায় চাচার ধর্ষণের শিকার ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী! গাইবান্ধায় স্বতন্ত্র মাদ্রাসা জাতীয়কররণের দাবীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় রাজাহার ইউনিয়নে ইউপি সদস্য পদে এভিএমএ অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে জলি বেগম নির্বাচিত পথশিশুদের মাঝে শাহনূরের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে উদ্ধুদ্ধ করনের লক্ষ্য কঞ্চিপাড়া ডিগ্রি কলেজে কর্মশালা অনুষ্ঠিত। সুন্দরগঞ্জের শ্রীপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কামরুল হুদা রাজু ৫ দফা দাবিতে ফারিয়ার কর্মবিরতি ও মানববন্ধন মতবিনিময় সভায় জনতার মাঝে মোস্তাক আহমেদ রঞ্জু,আপামর জনতার ঢল সাদুল্লাপুরে সাংবাদিক খোরশেদ আলমের উপর মাদক ব্যবসায়ীর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নিযাচা’র চেয়ারম্যান জীবনহানির আশঙ্কা: গাইবান্ধায় বাসাবাড়ির এলপি গ্যাস দিয়ে অবাধে চলছে সিএনজি অটোরিকশা! প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

তিস্তা গিলছে বসতবাড়ি-আবাদি জমি, নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ

রাজু সরকার- স্টফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৪৪

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর পেটে বসতবাড়ি ও আবাদি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। তিস্তার অব্যাহত ভাঙ্গনে বসতবাড়ি ও আবাদি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে দুঃখের অনলে জ্বলছে মানুষজন। দীর্ঘমেয়াদি বন্যার ধকল কাটতে না কাটতে ফের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্মরণকালের ভাঙন অব্যাহত থাকায় হরিপুর ইউনিয়নের কাশিম বাজার পাঁকা রাস্তা, বেশ কিছু সংখ্যক দোকানপাট, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং বসতবাড়িসহ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। গত ৪/৫ দিন ধরে অবিরাম বর্ষন এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধির কারণে তীব্র স্রোতে ভাঙন ভাঙ্গন জোরদার হয়েছে। অব্যাহত ভাঙ্গনে উঠতি ফসলসহ বসতবাড়ি বিলিন হচ্ছে নদীগর্ভে। যে হারে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে তাতে ফের বন্যার আশঙ্কা করছেন চরবাসি।

টানা ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। ভাঙ্গনে গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কাশিম বাজার, চর চরিতাবাড়ি, মাদারিপাড়া, লখিয়ারপাড়া, টেবরির মোড় শ্রীপুর ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর পুটিমারী, লালচামার গ্রামের হাজারো একর ফসলি জমি ও দুই শতাধিক বসত বাড়ি নদীগভে বিলিন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও বসতবাড়ি। ভাঙ্গন কবলিত পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।

একদিকে করোনা ভাইরাস অন্যদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি অপরদিকে তিস্তার অব্যাহত ভাঙ্গনের মুখে পড়ে বেসামাল হয়ে গেছে তিস্তা পাড়ের মানুষজন। থেমে থেমে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় খাল-বিল ও আবাদযোগ্য নিচু এলাকাগুলো টই-টুম্বুর হয়েছে। বিশেষ করে কাপাসিয়া, হরিপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত রাক্ষুসি তিস্তানদীর ভাঙ্গনে বালু চরের সবুজের সমারোহ ও বসতবাড়ি বিলিন হচ্ছে।

হরিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং নাজিমাবাদ বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম রঞ্জু জানান, গত তিন সপ্তাহের ব্যাবধানে তার বাড়ির সামন দিয়ে কাশিমবাজার-উলিপুর পাঁকা সড়কটি প্রায় ৩০০ মিটার তিস্তা গিলে খেয়েছে। এছাড়া বসতবাড়ি, দোকানপাট, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। তিস্তার ভাঙ্গনে চরাঞ্চলবাসি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কারণ দীর্ঘদিন থেকে দফায় দফায় নদী ভাঙ্গন চলছে। নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় কৃষকরা মাথায় হাত দিয়ে বসেছে।

হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাফিউল ইসলাম জানান, যে হারে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে তাতে করে ফের বন্যার সম্ভবনা রয়েছে। গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে তার ইউনিয়নে শতাধিক পরিবার নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।

কাপাসিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন জানান, গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে তার ইউনিয়নে শতাধিক পরিবার নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন হুমকির মুখে রয়েছে পাঁচ শতাধিক পরিবার। নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়া পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতার জীবনজাপন করছে।

শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, উঠতি ফসলসহ বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী লুতফুল হাসান জানান, ভারি বর্ষন অব্যাহত থাকায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে ভাঙ্গন কবলিত পরিবারের তালিকা নিরূপন করে জেলা প্রশাসকের নিকট পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্তাবধানে হরিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোডের নিবার্হী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান নদী ভাঙ্গনরোধে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে নদী সংরক্ষণের ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘ত্রাণসহ কয়েকবার আমি কাশিমবাজারে গেছি। সেখানে ত্রাণ বিতরণসহ ৭মসজিদের জন্য টাকাও দিয়েছি। ব্যক্তিগত অর্থায়নে কয়েক জায়গায় জিও ব্যাগও ফেলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন,উলিপুর-কাশিমবাজার এলাকাটা বর্ডার এলাকা হওয়ায় ভাঙ্গনরোধে স্থায়ী সমাধান নিতে সমস্যা হচ্ছে। তবে ওই এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের চিফ ইঞ্জিনিয়ার, বিভাগীয় প্রকৌশলী ও ডিজির সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত তারা ব্যবস্থা নিবেন।

এ জাতীয় আরো খবর...

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | গাইবান্ধা প্রতিদিন

Theme Customized BY LatestNews