1. shahriarltd@gmail.com : GaibandhaPratidin :
  2. maydul@gaibandhapratidin.com : Maydul :
  3. info@gaibandhapratidin.com : Milon Sarkar : Milon Sarkar
  4. raju@gaibandhapratidin.com : Raju Sarker : Raju Sarker
  5. srridoy121@gmail.com : Samsur Rahman Ridoy : Samsur Rahman Ridoy
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আগামী প্রজন্ম কে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই-এ্যাড. উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপি  ধানের সাথে ফেন্সিডিল মজুত পরিকল্পনা? ” স্বপ্ন চুড়ায় পৌঁছানোর আগেই গোয়েন্দার হাতে চাতাল ব্যবসায়ী মোতাহার আটক ! ফুলছড়িতে সাংবাদিকদের সাথে ওসির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গাইবান্ধায় বিএনপির নেতা খন্দকার আহাদ আহমেদের উদ্যোগে শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষে দরিদ্র সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শাড়ি বিতন সুন্দরগঞ্জে ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের আনন্দ মিছিল গোবিন্দগঞ্জে বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে মানববন্ধণ ও স্মারক লিপি প্রদান গাইবান্ধায় চাচার ধর্ষণের শিকার ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী! গাইবান্ধায় স্বতন্ত্র মাদ্রাসা জাতীয়কররণের দাবীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় রাজাহার ইউনিয়নে ইউপি সদস্য পদে এভিএমএ অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে জলি বেগম নির্বাচিত পথশিশুদের মাঝে শাহনূরের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

ফুলছড়িতে বন্যা ও নদী ভাঙ্গনে কাহিল কাবিলপুর গ্রামের মানুষগুলোর ভাগ্যে জোটেনা কোরবানির মাংস

হাবিবুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২০
  • ৫৯৮

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশির আমেজ। কুরবানির ঈদ আসন্ন। সামর্থ্যবানরা ইতিমধ্যে ঈদের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। চারদিকে ঈদের আমেজ বিরাজ করলেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এ বছরেও ঈদের আনন্দ নেই তাদের। ছোট ছোট শিশুরা জানেনা কুরবানি ঈদে কী হয়। অন্যান্য বছরের মতো হয়তো এবারের ঈদেও তাদের ভাগ্যে জোটবেনা এক টুকরো কুরবানির মাংস। ধারদেনা করে ব্রয়লার মুরগির মাংসে পেটভরে খেয়েই তাদের ঈদ উদযাপন। বলছি বন্যা ও নদী ভাঙনে কাহিল অবস্থার শিকার ব্রহ্মপুত্র নদের মাঝখানে জেগে উঠা কাবিলপুর চরের কথা। এটি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা উড়িয়া ইউনিয়নের একটি চর। এ গ্রামে আড়াই হাজার লোকের বসবাস। এ চরের বসবাসকারীদের কপালে জোটেনি তেমন কোন সাহায্য সহযোগিতা। বন্যা ও নদী ভাঙন দুর্ভোগের কারণে তাদের ঈদের আনন্দ মাটি হয়ে গেছে।

মুসলমানরা সাধ্য ও সামর্থ্যরে মধ্যে ঈদ আনন্দ উদযাপন করে। কিন্তু বন্যা ও ভাঙন কবলিত ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত উড়িয়া ইউনিয়নের কাবিলপুর গ্রামে দুর্ভোগের কারণে ¤øান হয়ে গেছে ঈদের আনন্দ। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও স্থানীয়ভাবে বর্ষণে তিন দফার বন্যায় কাবিলপুর গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চারদিকে থই থই করছে বানের পানি। বানভাসি মানুষগুলোর ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। চরের একমাত্র ঈদগাহ মাঠটি পানির নিচে। খেটে খাওয়া শ্রমজীবি মানুষগুলো হয়েছে কর্মহীন। প্রান্তিক চাষিদের নেই আয়-রোজগার। সরকারের পক্ষ থেকে কিছুটা ত্রাণসহায়তা দেয়া হলেও তা খুবই অপ্রতুল। তাই ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। কাবিলপুরবাসীর দিন কাটছে অনাহারে, অর্ধাহারে ও নানা কষ্টে। কুরবানির ঈদ হলেও চরের এসব মানুষের অধিকাংশই পান না এক টুকরো মাংস। আক্ষেপ করে অনেকেই বলেন, এটাই তাদের জীবন। আমাদের মতো গরিবদের আনন্দ বলতে কিছু নাই। ঈদ তাদের জন্য সব সময়ই স্বপ্নের মতো।

যেখানে মানুষের ন্যূনতম প্রয়োজন মিটছে না। দুবেলা দুমুঠো খাবারের জন্য জীবন সংগ্রামে নামতে হয় কর্মজীবী নিম্ন আয়ের মানুষদের। কিন্তু প্রথমে করোনা ভাইরাসের পর দীর্ঘমেয়াদী বন্যা তাদেরকে কর্মহীন করেছে। ঠিকমতো খাবার না পেয়ে অবুঝ-নিষ্পাপ শিশুরা ঘরে ঘরে কান্নাকাটি করছে। রোগে শোকে কাতর নারী-শিশু-পুরুষ কিংবা বয়স্ক ব্যক্তিরা চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে না পেরে আজ সীমাহীনভাবে রোগে-শোকে ধুঁকছে। এমনকি পরিবারের সবাই এখন নানাভাবে সমস্যা ও দুর্দশার শিকার, গভীর জীবন যন্ত্রণায় কাহিল কাবিলপুর চরের দরিদ্র এ মানুষগুলো।

ওই গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর ফুল মিয়া (৪২) কাজ না পেয়ে ঘরে বসে দিন পার করছেন। ঈদ করার মত কোন টাকা পয়সা হাতে নাই। একটি টিনের চালা পেতে কোনমতে দুই সন্তান নিয়ে বাস করছেন তারা। ত্রাণের চাউল তার ভাগ্যে জোনেনি। দু’বেলা খেয়ে কোনমতে চলে তাদের সংসার।
সপ্তাহ দুয়েক আগে বজ্রপাতে স্বামী-সন্তান হারা দুলালী বেগম (২৬) জানান, নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যের জমিতে বসবাসরত অবস্থায় স্বামী শফি ইসলামের মৃত্যুর সময় ঘরে কোন খাবার ছিল না। ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে সরকারি ত্রাণের আশায় বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছেন। কিন্তু কারও সারা পাননি। স্থানীয় সমাজসেবক গোলাম মোস্তফা কামাল পাশা তাকে ২০ কেজি চাল সহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী দেওয়ায় তা দিয়ে কয়েকদিনের খাবারের ব্যবস্থা হয়েছে। ঈদের আগেই এসব শেষ হয়ে যাবে। ঈদের দিন কী খাবেন বলতে পারছেন না।

 

সরেজমিন গেলে কাবিলপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস ছাত্তার (৭০), আব্দুল গফুর (৭৫), শান্তি বেগম (৫০), তয়েজ উদ্দিন (৫৫) ও জহুর বেগম (৪৫) সহ কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, ‘বাবা, আমাগো আর ঈদ নাই। সব আনন্দো দুয়ে মুছে নিয়ে গেছে। গায়ে খাইডা আর জানডা চলে না। প্রতিবছর ঈদে বাচ্চাগো নিয়ে কত আনন্দ করতাম। নদীর বাঙ্গন সব মাটি করে দিছে। তার উপর এবারকা বানের পানিত সব তলে গেছে। ঈদের আনন্দ বলতে কিছু নাই। ছাওয়া পোয়াক ঈদত নয়া কাপড় কিনি দেই কনঠে থাকি। কথা হয় কাবিলপুর চরের সাগরিকা খাতুন (১১), সাকিবুল হাসান (১৩), জাহিদ মিয়া (১৪), লিমা খাতুন (৮), সজিব মিয়া, (১০) তাসিম (৭) সহ কয়েকজন শিশুর সাথে। ঈদের কথা বলতেই এক ফালি হাসি দিয়ে বলল, ঈদ এলা কুনদিন, তাক হামরা জানি নে। এবারের ঈদে পশু কুরবানি হয় এটা তারা জানেন না।

উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহাতাব উদ্দিন জানান, চরের অভাবী মানুষগুলোর ঈদ নেই বললেই চলে। সরকারিভাবে যে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে তা দিয়ে তাদের ঈদ হয় না। আগের বছরের ঈদগুলোতে কাবিলপুর চরে তেমন একটা কুরবানি হয়নি। এলাকায় কুরবানি না হলে তারা মাংস পাবে কোথায় ?

এ জাতীয় আরো খবর...

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | গাইবান্ধা প্রতিদিন

Theme Customized BY LatestNews