1. admin@banglaitsolution.xyz : Mr. Shahriar Hossain : Mr. Shahriar Hossain
  2. desk@gaibandhapratidin.com : Maydul Islam : Maydul Islam
  3. : :
  4. newsdesk@gaibandhapratidin.com : Office Staff : Office Staff
ছোট্ট পাখি ফটিকজল - Gaibandha Pratidin
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞাপন:

ছোট্ট পাখি ফটিকজল

মোঃ শাহরিয়ার হোসাইন
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২০
  • ৪১১ বার পঠিত

বাড়ীর পাশে প্রতিবেশী বাগানে অনেক চেষ্টার পর অবশেষে ফটিকজল পাখিটির ছবি ক্যামেরা বন্দি করি। এই পাখি সম্পর্কে নানা জনশ্রুতি আছে।

ফটিকজল: Common Iora/Aegithina tiphia গল্প আছে, একবার দেশে ভীষণ খরা দেখা দিল। এক ফোঁটা বৃষ্টি নেই, খাল-বিলে পানি নেই। রোদে পুড়ে সৃষ্টি সার খার, খাবার পানিটুকু পর্যন্ত নেই। পানির অভাবে দেশ থেকে রান্নার পাট উঠে গেল। লোকেরা সব খাদ্য পুড়িয়ে খেতে লাগল। একদিন এক বিধবা মায়ের একমাত্র ছেলে পোড়া খেয়ে পানি খেতে চাইল। বাড়িতে এক ফোঁটা পানি নেই। ছেলের জন্য পানি খুঁজতে মা চলল নদীতে, যদি এক ফোঁটা পানি মেলে। অনেক চেষ্টার পর একটু পানি নিয়ে সে যখন বাড়ি এলো, ছেলে তখন পিপাসায় মরে গেছে। পুত্র শোকে বিধবা পাগল হয়ে গেল। পাগল হয়ে গেলেও বিধবা মনে করে ছেলে তার মরেনি, পানি খাবার জন্য এখনও বেঁচে আছে। বিধবা প্রতিদিন হাজামজা নদীর কাদা নিংড়িয়ে পানি যোগাড় করে আনে। কিন্তু কেউ চাইলে সে তা দেয় না। ছেলের জন্য রেখে দেয়। একদিন আরেক বিধবার ছেলের এমন দশা হলো। এক্ষুণি পানি চাই। পুত্রহারা বিধবার কাছে পানি থাকা স্বত্ত্বেও সে এক ফোঁটা পানি দিল না। পানির অভাবে ছেলেটি মরে গেল। তখন বিধাতা রুষ্ট হয়ে বিধবাকে অভিশাপ দিয়ে একটি পাখি বানিয়ে দিলেন। বিধবা তখন পাখি হয়ে ডালে ডালে ঘুরে বেড়ায় আর সেই থেকে বলে চলেছে: টিক, জল, টিক…জল। এ রকম আরো অনেক গল্প রয়েছে এই পাখি সম্পর্কে।

প্রজাতি পরিচিতি: এই পাখিরই নাম ‘ফটিকজল’। ইংরেজি নাম: কমন আয়োরা, বৈজ্ঞানিক নাম: ইজিথিনা টিফিয়া; উপগোত্র: ইজিথিনিনি।

স্বভাব ও ডাকঃ ফটিকজল চড়–ই আকৃতির এক প্রকার দৃষ্টিনন্দন পাখি। পাতার আড়ালে থেকে থেকে বিচিত্র মিষ্টি স্বরে ডেকে ডেকে খাদ্য খুঁজে বেড়ায়। শহর-গ্রামের বৃক্ষশাখে এদের দেখা যাবে। মেঘলা দিনে এদের মন মাতানো গান খুবই উপভোগ্য। সাধারণত স্ত্রী-পুরুষ জোড়ায় জোড়ায় বাস করে। কখনও কখনও ছোট বলে পাতার ফাঁকে-ভাঁজে পোকামাকড় খুঁজে বেড়ায়। এ সময় কর্তা-গিন্নি পরস্পরের দূরত্বের ব্যবধান জানার জন্য মৃদু শিসের মতো শব্দ আদান-প্রদান করে।

শনাক্তকরণ বৈশিষ্ট্য: গ্রীষ্মকালে পুরুষ-ফটিকজলের ওপরের পালক ও কোমর সবুজাভ হলুদ, বাকি সবটাই কালো; কিন্তু মাথা ও পিঠে কিছুটা হলুদ মিশানো। ডানার ওপরে ঘাড়ের কাছ থেকে দুটো সাদা দাগ নীচ পর্যন্ত নেমে গেছে। ডানার ওড়ার পালকের ধার খুব সরু করে হলুদ। তলার পালক গাঢ় হলুদ। অবশ্য বুকের তলা থেকে কিছুটা মলিন ও সবুজাভ। শীতকালে ওপর পালরেক কালো ভাবটা থাকে না, হলুদ অংশও খুব ফিকে থাকে। সব ঋতুতেই স্ত্রী ফটিকজলের পালকের রঙ সবুজাভ হলুদ। তলার অংশে হলুদ ও উপরে সবুজ ভাবটা একটু প্রকট। ডানা গাঢ় সবুজে পাটকিলে। ওড়ার পালকের ধার খুব ফিকে সবুজ, ঘাড়ের কাছ থেকে একটামাত্র সাদা টানা দাগ পুরুষের মতো নিচে নেমে এসেছে। উভয়ের কনীনকা ফিকে হলুদ। চঞ্চু সিসে নীল, উপরের চঞ্চুর মাঝখানটা কালো। পা সিসে নীল। কোমরের ওপর সরু সিল্কের মতো অজস্র নরম পালক।

প্রজনন: এপ্রিল থেকে জুলাই ফটিকজল পাখিদের যৌন ও প্রজনন সময়। স্ত্রী ও পুরুষ ফটিকজল পাখি মিলন শেষে এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের কোন এক সময় দুই ডালের ফাঁকে মাটি হতে তিন থেকে ৩০ ফুটের মধ্যে পেয়ালার আকারে আড়াই ইঞ্চি চওড়া বাসা বানায়। বাসা তৈরি হয়ে গেলে স্ত্রী ফটিকজল দুই থেকে চারটি ডিম পাড়ে। কর্ত্রী ডিমে তা দেয়, কর্তা খাদ্য যোগান দেয়। ডিম ফুটে ছানাদের বেরুতে সময় লাগে ১২ থেকে ১৮ দিন। ফটিকজল স্ত্রী-পুরুষ মিলেই বাচ্চাদের দেখাশুনা করে।

এ জাতীয় আরো খবর...

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | গাইবান্ধাপ্রতিদিন.কম

Theme Customized BY LatestNews